নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রায় আড়াই বছর পর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ফতুল্লা থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাটি তদন্তের সময় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৩ মে ভোরে ফতুল্লার আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি শান্ত হোসেনকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ মে রাতভর অভিযান চালিয়ে আহাদ আলী (২৩), রুবেল (৩২), আশিক (২৩), জুম্মন (২৩) ও জাহিদ হাসান শুভকে (২৫) ফতুল্লা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেফতার শান্ত হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এছাড়া রিমান্ডে নেওয়া অন্য আসামিদের মধ্যে আহাদ আলীও আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত আতিকুল ইসলাম ফতুল্লার আলীগঞ্জ কাজীপাড়া বাজারে বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন। একই এলাকার আরেক বিকাশ ব্যবসায়ী আলী সম্রাট ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সকালে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। পরে রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আতিকুলকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে আতিকুল তার বন্ধু মাসুম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। একপর্যায়ে মাসুম সাময়িকভাবে সেখান থেকে চলে গেলে আতিকুল নিখোঁজ হন। এর দুদিন পর ১১ নভেম্বর সকালে আলীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুর থেকে তার তার উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে ধার নেওয়া ৫০ হাজার টাকা আতিকুলকে ফেরত দেন আলী সম্রাট। পরে গ্রেফতার আসামিরা ওই টাকা ও আতিকুলের কাছে থাকা আরও অর্থ ছিনিয়ে নেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেট, বুক ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে লাশটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
এ হত্যাকাণ্ডে আরও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানায় পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ