‘বাংলাদেশ আজ সাংস্কৃতিক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে। আমাদের সামনের সময় অনেক কঠিন। এই কঠিনেরে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সৃজনশীল কাজে যুক্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর এই ঐক্যবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমাদের সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা হবে এই প্রত্যাশা করি।’
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব নাট্য দিবসের সম্মাননা গ্রহণকালে কবি, নাট্যকার ও সংগঠক শিশির দত্ত এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (বাংলাদেশ কেন্দ্র), বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতীয় বাণী পাঠকালে লেখক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মফিদুল হক বলেন, ‘বাংলার এই নাট্য ঐতিহ্য অবহেলার শিকার হয়েছিল দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনে, তবে নাটকের প্রাণ সজীব ছিল লোকসমাজে এবং সেখান থেকে নতুন উপাদান ও সৃষ্টিবীজ নিয়ে নাটকের বহমানতা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি।
আজ একবিংশ শতকের দুই দশকের অধিককাল পেরিয়ে আমরা নাটকের সংকট ও সঞ্জীবনী সম্ভাবনা দুইয়ের দোলাচলের মধ্য দিয়ে চলছি। এই সময়ে শিল্পের মশাল হাতে পথ চলবার দিশা নাট্যশিল্পীরা তাদের মতো করে খুঁজে নেবেন। ঐতিহ্য যেমন তাকে যোগাবে সৃষ্টিশীল উপাদান।’
উৎসবের স্মারক বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের নৃত্যকর্মী ও উপাচার্য তামান্না রহমান বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ শব্দটি এদেশের নাট্যকর্মীদের সবসময়ই সঙ্গী। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বার বার এই নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ঘুরে ঘুরে এসে এদের স্বাভাবিক চর্চার গতিবিধি বাধাগ্রস্ত করেছে ও করে যাচ্ছে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌক্তিক সমাজে যেভাবে লালন পালন ও পৃষ্ঠপোষকতা হওয়া বাঞ্ছনীয় তা বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও যে হয়ে ওঠেনি তা আমরা সবাই জানি। বর্তমান সময়টিই তার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী। স্বাধীন বাংলাদেশ হবে মানবিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির বাংলাদেশ এই প্রত্যাশা আমাদের ছিল ও এখনো আছে।’
স্বাধীনতা দিবসের একদিন পর দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বক্তারা শিল্প চর্চার স্বাধীনতা না পাওয়ায়, বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়টাতে ভীতি প্রদর্শন ও হামলাসহ শিল্পাঙ্গনে নানাভাবে সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সময় তা উত্তরণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
‘সহিংস বিশ্বের বিপরীতে মানবিক থিয়েটার’ শীর্ষক উৎসবে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (বাংলাদেশ কেন্দ্র)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুস সেলিমের সভাপতিত্বে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এদিন মঞ্চে ও মঞ্চের বাইরে দর্শক সারিতে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (বাংলাদেশ কেন্দ্র) সেক্রেটারি জেনারেল দেবপ্রসাদ দেবনাথ, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, আসিফ মুনীর, ঠান্ডু রায়হান, মাসুম রেজা, মোহাম্মদ বারী, বাবুল বিশ্বাস, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাট্যজন নাকী ইনাম, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তপন হাফিজ। যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেতা ও পরিচালক ইলিয়াম ডাফো নাট্য দিবসের বাণী দিয়েছেন। আইরিন পারভীন লোপা বিশ্ব নাট্য দিবসের বাণী পাঠ করেন।
এর আগে বিকালে নাট্যশালায় আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন মত ও পথের নাট্যকর্মীরা অংশ নেন। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।