সুনামগঞ্জ শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ইংরেজি | ২ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা | ৬ জুমাদাল উলা ১৪৪৮ হিজরি
Ad
শিরোনাম
আজকের CSI News - সি এস আই নিউজ সংবাদ
সি এস আই নিউজ
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬ ইং
অনলাইন সংস্করণ

আগাম ধানে ব্যস্ততা শুরু

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আগাম জাতের বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। জেলার মধ্যনগর, জামালগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওরগুলোতে চলছে এই জাতের ধান কর্তন । আগাম জাতের ব্রি-৯৬ ধানের ফলনে অনেক কৃষক লাভবান হয়েছেন। 


জেলার বিভিন্ন হাওরে ঘুরে দেখা যায়, কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন এবং স্থানীয় শ্রমিকরা আগাম ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি ধান মাড়াই, ধান শুকানোর কাজে কৃষাণীরা ব্যস্ত রয়েছেন। 

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে আগাম জাতের ব্রি-৯৬ ধান সহ বিভিন্ন জাতের ৬৭৩৫ হেক্টরের মধ্যে প্রায় ১১৪ হেক্টর কর্তন হয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতায় ধান নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা কমপাকা ধানও কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। পাকনার হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, দেখার হাওর, খরচার হাওর এবং মধ্যনগরের দক্ষিণ বংশীকুন্ডাসহ বিভিন্ন এলাকার হাওরে ধান কাটা চলছে। উৎসবমুখর পরিবেশে আগাম জাতের ধান কর্তন চলছে।


এদিকে ধান কাটায় ছয় হাজার শ্রমিকের পাশাপাশি ৫৭৭টি কম্বাইন হারভেস্টার কাজ করছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কম্বাইন হারভেস্টারের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মওজুদ রয়েছে। এছাড়াও এসিআই কোম্পানি থেকে আরও ৫০টি হারভেস্টার ভাড়ায় আনার কথা রয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবীরাও ধান কর্তনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। 

 

তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে হালির হাওর, পাকনার হাওর, ধানকুনিয়া হাওর, জুয়ালভাঙ্গা হাওর, শিয়ালমারা হাওর, পিংলার হাওর, চিলার হাওরসহ বেশ কিছু হাওরে পানি প্রবেশ করেছে, যা পাকা ধান কাটার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। সেজন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দ্রুত উপযুক্ত হওয়ামাত্র ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে, মাঠপর্যায়ে তদারকি করছে। এছাড়াও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা প্রদানের জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

 

বুধবার দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রমিকরা ধান কর্তন করছেন। কোথাও কোথাও হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কর্তন চলছে। 

 

খরচার হাওরে আগাম জাতের ব্রি-৯৬ ধান রোপণ করেছেন  মারফত আলী। তিনি ১০ কেয়ার জমিতে ব্রি -৯৬ জাতের ধান চাষাবাদ করে লাভের আশা করছেন। গত বছর ধরেই এই জাতের ধান চাষাবাদ করে লাভবান হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা অধিকাংশ কৃষক আগাম জাতের ব্রি ৯৬ ধান রোপণ করেছি। এই ধানের ফলন ভালো। গত চার বছর ধরে এই জাতের ধানে আমরা লাভবান হয়েছি। এই জাতের ধানের চাল চিকন, খেতে খুবই সুস্বাদু। এছাড়া চাষাবাদে খরচও কম।

 

আমি এবছর ১০ কেয়ার (৩ কেয়ারে এক একর) জমিতে আগাম জাতের ব্রি-৯৬ ধান রোপণ করেছি। আজকে সাড়ে তিন কেয়ার ধান কর্তন হয়েছে। আশাকরি প্রতি কেয়ারে ১৮ মন ধান হবে।

 

জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের কৃষক আপতাবনুর খান বলেন, আগাম জাতের ব্রি ধান-২৮ ইতোমধ্যে ৫ কেয়ার (প্রতি কেয়ার ২৮ শতক)  কর্তন করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কেয়ার প্রতি ১৮ মণ ধান হয়েছে। 

 

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রায় ৮০ কেয়ার জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছি। এরমধ্যে জলাবদ্ধতার কারণে ১৫ কেয়ার জমি পানির নিচে রয়েছে। আগাম জাতের ব্রি ধান ২৮ আরও দুই কেয়ার আছে। দুই চারদিনের মধ্যে কর্তন করতে পারব।


এদিকে আগাম জাতের ধান কর্তনে জেলার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। ধান কর্তন শুরু হওয়ায় তারা সকাল থেকেই হাওরে হাওরে কৃষকদের ধান কর্তনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।  

 

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরে আপতাব উদ্দিন বলেন, আমরা ১৯ জন শ্রমিক কাজ করছি। সাতভাগ হারে ধান কাটছি। আগাম জাতের ধান চাষাবাদ করায় বৈশাখি’র ধুম পড়ার আগেই কাজের সুযোগ পেয়েছি। 

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সুনামগঞ্জ হচ্ছে হাওর অধ্যুষিত একটি জেলা। এই জেলার প্রধান ফসল বোরো ধান। জেলায় এ বছর ধান চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর। এরমধ্যে অর্জিত হয়েছে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর। ৬ হেক্টর বেশি অর্জিত হয়েছে।  বর্তমানে জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাওরগুলোতে ছিটেফোঁটা ধান কর্তন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জামালগঞ্জের পাকনার হাওরে এবং বুধবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরে ধান কর্তন হয়েছে।  


তিনি বলেন, ব্রি ধান-২৮ এবং ব্রি-৯৬ জাতের ধান কর্তন শুরু হয়েছে। এই ধানের ফলন ভালো এবং খেতে খুবই সুস্বাদু। এই ধান আবাদ করে কৃষকেরা তাদের কাক্সিক্ষত ফলনে খুশি। প্রতি বিঘায় ১৫ মণ থেকে ১৮ মণ পেয়ে থাকেন কৃষকরা। সুনামগঞ্জে এই জাতের ধানের জনপ্রিয়তা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর কৃষকেরা লাভবান হবেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া সংসদ চলতে পারে না: মামুনুল হক

1

অক্ষয়ের সঙ্গে ‘সেলফি’ সিনেমার সেই দৃশ্য নিয়ে যা বললেন আদাহ শ

2

আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি:

3

গ্যালারিতে বসে দেশসেরা ক্ষুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানম

4

প্রথমবার এক সিনেমায় সালমান-নয়নতারা, শুরু হলো শুটিং

5

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনে কমিটি গ

6

রাজনীতির নামে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ধর্মীয় ভণ্ডামি কখনোই নতু

7

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত

8

শিক্ষকদের ফেসবুক ব্যবহারে মাউশির নতুন নির্দেশনা

9

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আব

10

বাসে চবি শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ, আটক ১

11

জামালপুরে কালবৈশাখীর ঝড়ে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

12

মহাসড়কে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশ দেখে পলায়ন

13

হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

14

মার্কিন নৌবাহিনীকে কেন জলদস্যুদের সঙ্গে তুলনা করলেন ট্রাম্প?

15

‘বাবা, তোমার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিলাম’— মৃত্যুবার্ষিকীতে

16

চীনে পৌঁছেছেন মির্জা ফখরুল

17

তৃণমূলের ৪৪০ কোটি রুপির তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

18

পাকিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ৯ পুলিশ নিহত

19

স্পোর্টস ও ইভি গাড়ি প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী

20