সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার ওসি সহিদ উল্যা কর্তৃক মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নাসিম হত্যা মামলায় ১১ আসামীর মধ্যে মূল আসামীসহ ০৯ জনের নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভোক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
আজ বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি’র হলরুমে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে নিহত নাসিমের স্ত্রী রূপসা আক্তার ধর্মপাশা থানার ওসি সহিদ উল্যাহ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম কর্তৃক মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিমিয়ে আসামীদের পক্ষে মামলার চার্জশিট দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী হত্যাকান্ডের পর ন্যায় বিচারের আশায় আমি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে প্রথমে ওসি মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্ত ডালি ও অলির নাম কেটে দিলে তিনি মামলা নিবেন বলে জানান। পরবর্তীতে স্থানীয় এমপির নির্দেশে মামলা নিলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি ১১ জন আসামীর মধ্যে মূল আসামীসহ ০৯ আসামীর নাম বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেন। আমি এ মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবী জানাই। বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমি ন্যায় বিচার কামনা করি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামে পূর্ব বিরোধ ও পথিমধ্যে চাচাতো বোনকে হেনস্থা করার প্রতিবাদ করায় গত ০৭ ই জুন প্রকাশ্য দিবালোকে আমার স্বামী (নাসিমকে) নির্মমভাবে হত্যা করে একই গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান ডালি গংরা। হত্যাকান্ডের দুই দিন আগে আমার দেবর জসিমের মোটর সাইকেল আটকিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি কবর খুড়ে রাখার হুমকি দেয় আসামী অলি। ০৬ই জুন ডালি গংরা আমার ভাসুরসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার চেষ্ঠায় আক্রমন করে। পরের দিন ০৭ জুন ডালি ও আনু গংদের সাথে কথা কাটা-কাটির জেরে আমার স্বামীকে কিল, ঘুষি, লাথি ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে হত্যা করে আসামীরা। হত্যাকান্ডের ঘটনার পর এখনো পর্যন্ত দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হলেও মূল আসামী ডালি ও অলি গংরা রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে।
এদিকে হত্যাকান্ডের ঘটনার পর আমার স্বামী হত্যার বিচারের আশায় ধর্মপাশা থানায় মামলা করতে গেলে দায়িত্বরত ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা ঘটনার মূল অভিযুক্ত ডালি ও অলির নাম কেটে দিতে বড় অঙ্কের টাকার অফারও করেন। এমনকি মামলার আয়ু জহিরুল ইসলাম জোরপূর্বক একটি কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্ঠা করেন। আমি স্বাক্ষর না দিতে চাইলে তিনি আমাকে হেনস্তা করেন। এবং ওসি সাহেব মহিলা পুলিশ দিয়ে আমাকে ধরে থানায় নিয়ে আসার হুমকিও দেন। এবং বারবার আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে আমাকে চাপ দিচ্ছেন। এদিকে আসামীরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে এসে আমাদেরকে প্রতিনিয়িত হুমকি দামকি দিয়ে আসছে। বিগত সরকারের আমলেও দলের বিভিন্ন এমপি ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সাথে ছবি তোলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো আসামীরা। বর্তমানে খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি’র বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ছবি তোলে তাদের ঘনিষ্ঠ বলে প্রচার করে এলাকায় দাফটের সাথে চলাফেরা করছে তারা। শিক্ষকতার মত মহান পেশায় নিয়োজিত থেকে নানা অপকর্ম করে বেড়ালেও তাদের ভয়ে মুখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পান না স্থানীয়রা। এদিকে ওসির সাথে আসামীদের পরিবারিক সম্পর্ক থাকায় ওসির পরামর্শে আমাদের নামে মিথ্যা একটি লুটপাটের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে আসামীরা। এতে আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।
তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী নাসিম একজন সামান্য চা বিক্রেতা ছিল। তাকে হারানোর পর আমি, আমার পরিবার ও আত্মীয় স্বজন শোকে দিশেহারা। ছোট ছোট ৪ টা মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। এদিকে প্রতিনিয়িত আসামীরা মামলা তুলে নিতে আমার পরিবারের মানুষকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি ও আমার পরিবারের সকলের জান-মালের নিরাপত্তায় তাই আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি। সেই সাথে মূল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে আমার স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বড় ভাই আলামিনসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।