সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় প্রায় ১৩ গ্রামের মানুষ ঈদ উদযাপন করে থাকেন। তবে এবার ফরিদপুরের সদরপুরে আরও একদিন আগে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রামচন্দ্রপুর দরবার শরিফের পিরের ভক্তরা। পবিত্র হজের দিনে তারা ঈদ উদযাপন করেছেন।
ফরিদপুরের সদরপুরে ভক্তদের নিয়ে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন রামচন্দ্রপুর দরবার শরিফের পির শাহ সুফি মো. রবিন হাসান মোস্তাক।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের দরবার শরীফ মসজিদে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জামাতে দরবার শরিফের ভক্ত ও আশপাশের কয়েকটি পরিবারের মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দরবার সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। বিগত ৩৪ বছর ধরে এভাবে ঈদ উদযাপন করে আসছেন তারা। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই দরবার এলাকায় ভক্তদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রামচন্দ্রপুর দরবার শরীফে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়ে থাকেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
দরবারের গদিনসিন পির শাহ সুফি মো. রবিন হাসান মোস্তাক যুগান্তরকে জানান, আমরা প্রতিবছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করে থাকি। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুসরণ করে আমাদের এ আয়োজন করা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সৌদিতে হজের দিন কীভাবে আপনারা ঈদের জামাত করলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে পির রবিন হাসান প্রতিবেদককে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এ বিষয়ে পীরের মা রেহানা বেগম বলেন, আমার শ্বশুর থেকে শুরু করে আমার স্বামী শাহ ওমর ফারুক বিগত ৩৪ বছর ধরে এভাবে পঞ্জিকা দেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। গত ১০ বছর আগে আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমার ছেলে গদিনসিন হয়েছে।
সৌদিতে হজের দিন কিভাবে আপনারা ঈদের নামাজ পরছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বর্তমান পিরের মা রেহানা বেগম বলেন, আমরা পঞ্জিকা দেখে ঈদ উদযাপন করছি। আমার স্বামী এবং শ্বশুর এভাবে করে গেছেন তাই সেই মোতাবেক আমরা ভক্তবৃন্দকে নিয়ে ঈদ এর নামাজ আদায় করে আসছি।