তিন বছর আগে হঠাৎ করেই দায়িত্ব ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সেই সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হয়ে অবশেষে ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের কোচের পদে ফিরে প্রকাশ্যে অনুশোচনা প্রকাশ করলেন রবার্তো মানচিনি।
চরম সংকটে পড়া ‘আজ্জুরি’দের দায়িত্ব নিয়ে নিজের ভুলের জন্য সোজাসুজি ক্ষমা চেয়েছেন ইতালিকে ইউরো জেতানো ৬১ বছর বয়সি এই অভিজ্ঞ কোচ।
বুধবার (২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে মানচিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই গভীরভাবে দুঃখিত। এটি অনেকটা জীবনের সেরা ভালোবাসাকে হারিয়ে ফেলার মতো অনুভূতি। এর মানে হলো—এমন কিছু ঘটে গেছে যা হওয়া উচিত ছিল না। গত তিন বছরে যা কিছু ঘটেছে, সবকিছুর জন্যই আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। ইতালি দলকে আবারও তার প্রাপ্য জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করাই এখন আমার মূল লক্ষ্য।’
২০২১ সালে ইতালিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের (ইউরো) ট্রফি জিতিয়েছিলেন মানচিনি। তবে ২০২৩ সালের আগস্টে হঠাৎ করেই জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন এবং মাত্র দু’সপ্তাহ পর সৌদি আরব জাতীয় দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন।
মানচিনির প্রস্থানের পর ইতালিয়ান ফুটবলের সংকট আরও ঘনীভূত হয়। সবশেষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফ ম্যাচে হেরে পরপর তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই ভরাডুবির পর গত এপ্রিলে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা এবং তৎকালীন প্রধান কোচ জেনারো গাত্তুসো পদত্যাগ করেন।
সাবেক ফেডারেশন সভাপতি গ্রাভিনার সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতিই এই পরিস্থিতির মূল কারণ ছিল উল্লেখ করে মানচিনি বলেন, ‘পুরো ভুলটাই সম্পূর্ণভাবে আমার ছিল।’
যদিও ফেডারেশনের প্রথম পছন্দ হিসেবে রবার্তো মানচিনি দায়িত্বে আসেননি। ইতালি দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কার্লো আনচেলত্তি এবং পেপ গার্দিওলা। অন্যদিকে, রাশিয়ার একটি জুয়াড়ি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পন্সরশিপ চুক্তি সংক্রান্ত রাজনৈতিক জটিলতার কারণে আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও তালিকা থেকে বাদ পড়ে। ফলে বিকল্প সমাধান হিসেবেই মানচিনির ওপর পুনরায় আস্থা রাখে ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে নেশন্স লিগের ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইতালি। এই ম্যাচ দিয়েই ইতালির ডাগআউটে মানচিনির দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
ঘরের মাঠে সমর্থকদের সম্ভাব্য অভ্যর্থনা ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মানচিনি বলেন, ‘আমি জানি অনেকেই হয়তো এখনো আমার ওপর ক্ষুব্ধ। তবে আমি আশা করি, দল মাঠের খেলায় এতটাই ভালো পারফর্ম করবে যে সমর্থকেরা হয়তো আমাকে ক্ষমা করার সুযোগ পাবেন।’